অখণ্ড স্বাধীন বাংলা | ১৯৪৭ সালের ২০ মে শরৎ বসুর কলকাতার বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অবিভক্ত ও স্বাধাীন বাংলার সমর্থক উভয় সম্প্রদায়ের বাঙালি নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রস্তাবিত ভবিষ্যৎ রূপরেখা সম্পর্কিত একটি চুক্তি করেন, যা “সোহরাওয়ার্দী-বসু রায় ফর্মূলা” নামে পরিচিতি লাভ করে। নিম্নে অখণ্ড স্বাধীন বাংলার রূপরেখা বর্ণনা করা হলো:


অখণ্ড স্বাধীন বাংলা | বাংলা হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এই স্বাধীন বাংলার শাসনতন্ত্রে হিন্দু ও মুসলমানের সংখ্যা অনুপাতে আসন সংরক্ষণসমূহ যুক্ত নির্বাচন ও প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে আইনসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। হিন্দু ও তফসিলী হিন্দুদের মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে অথবা উভয়ের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আসন বণ্টন করতে হবে।

নির্বাচন হবে একটি এলাকা থেকে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনমূলক (Multiple) এবং ভোট হবে বণ্টনধর্মী (Distributive), সর্বোচ্চ আসন সংখ্যাভিত্তিক (Cumulative) নয়। যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনে তার নিজস্ব সম্প্রদায়ের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট লাভ করেন এবং অন্য সম্প্রদায়ের প্রদত্ত ভোটের ২৫% ভোট পান তাহলে তিনি নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। যদি কোনো প্রার্থী এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন, তাহলে যিনি নিজ সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ ভোট লাভ করবেন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।


ব্রিটিশ সরকার এ মর্মে ঘোষণা প্রদান করেন যে, স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে এবং বাংলা অবিভক্ত থাকবে। তাহলে বাংলার বর্তমান মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদ বাদে সমসংখ্যক মুসলমান ও হিন্দু সদস্য নিয়ে একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। এই মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন মুসলমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন একজন হিন্দু।


পরবর্তী সংবিধান অনুযায়ী আইনসভা ও মন্ত্রীসভা গঠিত না হওয়া পযন্ত হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সামরিক বাহিনী ও পুলিশসহ সকল চাকরিতে সমান অংশ থাকবে। এসব চাকরিতে কেবল বাঙালিদেরই নিয়োগ প্রদান করতে হবে।


অখণ্ড স্বাধীন বাংলা | ইউরোপীয় সম্প্রদায় ভুক্ত সদস্যগণ বাদে বঙ্গীয় আইনসভায় মুসলমান ও অমুসলমান সদস্যগণ মিলে ১৬ জন মুসলমান এবং ১৪ জন হিন্দু সদস্য অর্থাৎ, মোট ৩০ সদস্যা বিশিষ্ঠ একটি সংবিধান পরিষদ নির্বাচিত করবে।


অখণ্ড স্বাধীন বাংলা | পরিশেষে বলা যায় যে, ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ কতিপয় নেতার অখণ্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনেক জল্পনা, কল্পনা ও বিরোধীতার ফলে অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ- স্বাধীন অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রের ভাগ্য কার্যত বাংলার বাইরে সর্বভারতীয় পর্যায়ে নির্ধারিত হয়েছিল।


আরো পড়ুন:

ফেসবুক: ‍amarStudy.com