স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান

গত শতাব্দীর ইংরেজ কবি, চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক টিএস এলিয়ট তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ Tradition And individual Talent এ বলেছেন, একটি জাতির শত শত বছরের পুরোনো প্রথা ভেঙে স্বপ্রতিভায় দীপ্ত বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসে এবং সে নেতৃত্ব একটি জাতিকে মুক্তির পথ দেখায়। রাশিয়ান সমাজতাত্ত্বিক ও দার্শনিক জর্জি প্লেখানভ মনে করেন, ইতিহাসের উপজীব্য সাধারণ মানুষ নিম্নবর্গ শ্রেণি হলেও ইতিহাসের নিয়ন্ত্রক ও স্রষ্টা একক ব্যক্তি কিংবা নেতা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির আর্থ-সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতায় বাঙালি জনগোষ্ঠীর মুক্তিসংগ্রামের সেই মহান নেতা, যিনি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ভেঙে জাতির নতুন ইতিহাস ও রাষ্ট্রনির্মাতা, তেমনি তিনি মহাকালের পাতায় নিজেও ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়।

এখনো amarStudy অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড না করে থাকলে গুগল প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপটি ইন্সটল করতে এখানে যানঃ Download Now. অ্যাপটি বিসিএস’সহ প্রায় সব রকমের চাকুরির প্রস্তুতির সহায়ক।

বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করেই বাঙালির চিরকাঙ্ক্ষিত বিজয়-ইতহাস। মহান নেতার জীবন ও রাজনৈতিক দিকদর্শন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের নিপীড়িত জাতিগুলোর মুক্তিসংগ্রামে চেতনা জাগায়, মুক্তির পথ দেখায়।

পাকিস্তান আমলে যখন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্রমান্বয়ে বছরের পর বছর শোষিত হওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে থাকে তখন বাঙালিদের মধ্যে দৈবশক্তি নিয়ে যে নেতার আবির্ভাব হয় তার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। নিম্নে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরা হলো:


০১। ভাষা আন্দোলন ও যুক্তফ্রন্টের বিজয়ে মুজিব : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম বাঙালিরা একত্রিত হয়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত হয়। ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ের পরও যখন এ. কে. ফজলুল হককে জেলে পুরা হয় তখন আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা লক্ষ করি। যুক্তফ্রন্ট কেবিনেটের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও শেষ মুজিব পার্টির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখেন। ছাত্র হিসেবে তিনি ভাষা আন্দোলনের সাথেও বিশেষভাবে জড়িত ছিলেন।

সেখান থেকেই শুরু হয় শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা। আটচল্লিশের ১১ মার্চ ভাষা দিবসে বন্দি হয়েছিলেন আন্দোলনের অগ্রসৈনিক তরুণ রাজনীতিক শেখ মুজিব। মুক্তি পেয়ে তিনি আরও বেগবান করলেন ছাত্রদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। ফের গেলেন জেলে। জেলেও বসে ছিলেন না। যোগাযোগ রেখেছেন আন্দোলনের ছাত্রনেতা ও রাজনীতিকদের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাই তিনিই হয়ে উঠলেন বাঙালির আশা-ভরসার প্রতীক।


০২। ঊনসত্তরের গণআন্দোলন : ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শেখ মুজিবকে অধিক পরিমাণে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। শেখ মুজিব প্রদত্ত ছয় দফার ওপর ভিত্তি করেই এ গণআন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।


০৩। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ : ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মুজিব শেখ মুজিবের ক্যারিজমাসুলভ নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করেই একাত্তর সালে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সুদীর্ঘ নয় মাস এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে লিপ্ত থাকার পর তাঁরা প্রতিষ্ঠিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ স্বাধীনতা সংগ্রাম শেখ মুজিবের নামেই পরিচালিত হয় এবং তিনিই ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ব্যক্তিত্ব। তাঁর ডাকে সমগ্র বাঙালি জাতি একত্রিত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং নিজেদের জীবন দিয়ে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা অর্জন করে।


০৪। ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দর্শনে উদ্বুদ্ধ করা : বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস হাজার বছরের। খরস্রোতা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তথা গঙ্গোত্রী অববাহিকায় বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠী হাজার বছর ধরে বিদেশি শাসন ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহে সোচ্চার হলেও এর কোনো সঠিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশিষ্টতা ছিল এখানেই। তিনি পরিপূর্ণ রাজনীতিক দর্শনের উন্মেষ ঘটিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে হাজার বছরের শোষণ ও বঞ্চনায় ক্ষতবিক্ষত বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দর্শনে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।


০৫। শত্রুমিত্র ঠিক করা : আফ্রিকার কওমে নক্রুমা থেকে শুরু করে নেলসন ম্যান্ডেলা এবং ভিয়েতনামের হোচিমিন পর্যন্ত কোনো নেতাকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মতো সাম্প্রদায়িক দানবীয় শক্তি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়াশীল শোষকশক্তির বিরুদ্ধে এমনভাবে লড়াই সংগ্রাম করতে হয়নি। বঙ্গবন্ধুর অসামান্য কৃতিত্ব ছিল তিনি জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে প্রধান দ্বন্দ্ব (pirncipal contradiction) এবং গৌণ দ্বন্দ্ব (Minor contradiction) গভীর প্রজ্ঞার সঙ্গে পরখ এবং নির্ধারণ করেছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ ঔপনিবেশিক শাসনকে চূড়ান্ত আঘাত হানার বহু আগেই বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে নিপুণ কুশীলবের মতো এ দ্বন্দ্ব নির্ণয় করে রাজনীতিতে কে তার মিত্র কিংবা শত্রু হবে তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছিলেন।


০৬। বাঙালির হৃদয় এক করে ফেলা : ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সালাউদ্দীন আহমদ কী করে বঙ্গবন্ধু সকল বাঙালির হৃদয় এক করেছিলেন সেই কথা লিখেছেন এইভাবে । “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনসাধারণ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ— হিন্দু মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান সকলে একত্রিত হয়ে এক অখণ্ড বাঙালি জাতিতে পরিণত হয়েছিল, যেটা আগে কখনও হয়নি। বস্তুত এ সময় এ অঞ্চলের সর্বস্তরের বাঙালিদের মধ্যে যে অভূতপূর্ব স্বদেশপ্রেম জাগ্রত হয়েছিল, সেটা গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে অর্থাৎ বিগত স্বদেশি যুগের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।


০৭। বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলার কৃষ্টি, বাংলার সভ্যতা, বাংলার ইতিহাস, বাংলার মাটি, বাংলার আকাশ, বাংলা আবহাওয়া, তাই নিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদ।


০৮। সঠিক সময় জনগণকে আঘাত : শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিবিদ। দেশের মানুষের মনের খবরটি তাঁর আগে অন্য কেউ জানতে পারত না। তাই ষাটের দশকে এসে তিনিই সঠিক উপলব্ধি করেন, লোহা তপ্ত হয়েছে ঠিক ঠিক। অর্থাৎ আঘাত করার সময় বয়ে যায়। তাই ‘৬৬ সালে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ আন্দোলনকে একটি ফ্রেমওয়ার্কের ভেতর এনে স্বাধীনতার প্রচ্ছন্ন কর্মসূচি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের জন্য ছয়দফা ঘোষণা করেন। তিনি এটাও বুঝেছিলেন যে ছয়দফা ঘোষণার পর আর রাজনীতির কোনো উপায় থাকবে না হেঁটে চলা। তখন রাজনীতিকে আপন গতিবেগেই ঝড়োগতিতে চলতে হবে। শেখ মুজিবের ধারণা সঠিকই হয়।


০৯। স্বায়ত্বশাসনের দাবি উত্তাপন : ঢাকার পল্টন ময়দানে জনসভা থেকে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ ১১ দফা ঘোষণা করেন ১৯৫৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন তিনি পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্যদের ভোটে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আগস্ট মাসে জাতীয় পরিষদের এক সভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ববঙ্গকে ‘বাংলা’ রাখার দাবি উত্থাপন করেন। ২১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ পরিবর্তন করে অসাম্প্রদায়িক নামকরণে ’আওয়ামী লীগ’ রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


১০। মুক্তির সনদ উপস্থাপন : ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান সর্বজনীন ভোটাধিকার, ফেডারেল পালামেন্টারি পদ্ধতির সরকার, কেন্দ্র ও প্রদেশের জন্য পৃথক মুদ্রা- ব্যবস্থা, প্রাদেশিক সরকারকে বিদেশের সঙ্গে আঞ্চলিক বাহিনী সংরক্ষণের অধিকারসহ ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচি পেশ করেন। ১৯৬৬ সালের ১ মার্চে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৬-দফার পক্ষে জনমত সংগ্রহে ব্যাপক প্রচারণাভিযান শুরু করেন। এ প্রচারণার সময় তাঁকে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা প্রভৃতি অঞ্চলে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার করা হয়। এ পর্যায়ে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিনি মোট ৮ বার গ্রেফতার হন।


১১। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানো : ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি ভারতীয় অর্থ ও অস্ত্রের সাহায্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত উল্লেখ করে তাঁকে প্রধান আসামি করা হয় এবং তাঁকেসহ মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারি মুক্তি দিয়ে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করে তাঁকে সেনানিবাসে আটক রাখা হয়। ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সেনানিবাসে তাঁর বিচার কাজ শুরু হয়।


১২। বঙ্গবন্ধু উপাধি গ্রহণ : ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি ৬-দফাসহ ১১-দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং এ পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে ছাত্র আন্দোলন শুরু করে, যা পরবর্তীতে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। প্রবল গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি এবং আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করে। দেশপ্রেমীর স্বীকৃতিস্বরূপ এ সমাবেশ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।


১৩। ৭০-এর নির্বাচনে ভূমিধ্বস জয় : ১৯৭০ সালের ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ৬-দফার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে জয়ী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু ‘নৌকা’- কে দলের নির্বাচনি প্রতীক নির্বাচন করে ঢাকার ধোলাইখাল থেকে প্রথম নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। ২২ অক্টোবর বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে ৬-দফার বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

১২ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ১০ লক্ষাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করলে নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ রেখে বঙ্গবন্ধু দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। অন্যদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এসে না দাঁড়ানোর জন্য তিনি ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করেন। ৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে পূর্বপাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন নিয়ে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হয়। তিনি নিজে ঢাকা ৮ ও ৯ এবং ফরিদপুর ৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন।


১৪। সময় নির্বাচন : বঙ্গবন্ধু ‘৭১ সালে বাঙালি জাতির হাত-পায়ের শৃঙ্খল টুটে দিয়ে বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের মতো কোনো ছোট দেশ আর স্বাধীন হতে পারবে না! কাশ্মির বা তিব্বত বা চেচনিয়া যেমন আর কখনো স্বাধীন হতে পারবে না! ইতিহাসের বিচারে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর ‘সময়’ নির্বাচন অর্থাৎ ‘৭১ সালকে বেছে নেয়া, তাই ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুর কাছে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন ‘ঋণ শোধ করবেই করবে। এ জাতি একদিন হিমালয় পর্বতের ন্যায় অটল হয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে উঠে দাঁড়াবে।


১৫. পরোক্ষ স্বাধীনতার ঘোষণা : বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় দিন। রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে এদিন বঙ্গবন্ধু দীপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন : ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”, উদ্ভূত রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের জন্য ২২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু আলোচনায় বসেন। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হয়।


উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী অতর্কিতে নিরীহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গণহত্যা শুরু করে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আক্রমণের খবরে ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু তাঁর ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

ঘোষণার পরপরই আনুমানিক রাত ১.১০ টায় সামরিক বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যায়। ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক জেলে বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার শুরু হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার অপরাধে উক্ত আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অসংখ্য দেশের চাপে পাকিস্তান তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে সাহস পায়নি। ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতের মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডার জেনারেল অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করে।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You're currently offline !!

error: Content is protected !!