তারকা যুদ্ধ | Strategic Defence Initiative: বা কৌশলগত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ সংক্ষেপে SDI নামে পরিচিত। এ কর্মসূচি হলো কতগুলো অস্ত্র ও সমর সরঞ্জামের সমাহার যা মহাকাশ, আবাহাওয়ামন্ডল ও ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর উপর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে মহাকাশ কিংবা ভূ-পৃষ্ঠে স্থাপিত হবে। এ ব্যবস্থা মহাশূন্য ভিত্তিক হওয়ায় একে তারকা যুদ্ধ বলে।
তারকা যুদ্ধ এই কথাটা প্রথম শুনিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৪৫ সালে মিত্র শক্তি বিজয় অর্জন করার পর জার্মানির নুরেমবার্গ এবং টোকিওতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হলো।

তারকা যুদ্ধ | বেশকিছু যুদ্ধাপরাধীকে বিচারে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসি দেয়া হল। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই মার্কিন যুদ্ধরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। ১৯৪৫ সালের ৬ এবং ৯ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে আণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হলো। ভয়াবহ এই বোমা হামলার ফল এবং প্রতি বছর জাপানসহ গোটা বিশ্ব ওই দিবসকে স্মরণ করে। ১৯৪৫ সালে যখন বোমা নিক্ষেপ করা হয় তখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ছিলেন মি. ট্রুম্যান। এই অস্ত্র প্রতিযোগিতার কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবিএম সিস্টেম উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দিয়েছিল। তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল দেখে মার্কিন কংগ্রেস এতে বেশি আগ্রহ দেখায়নি।

তারকা যুদ্ধ | রোনাল্ড রিগ্যান ক্ষমতায় এসে এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি এমনভাবে উন্নত করেন যে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ভূমিতে আঘাত হানার আগেই তা প্রতিহত করা বা শূন্য অবস্থান নিয়ে প্রতিপক্ষের মিসাইলকে শূন্যেই অর্থাৎ আকাশ থেকে আকাশেই ধ্বংস করে দেবে। এটাই ছিল বহুল আলোচিত তারকা যুদ্ধ বা [স্টারওয়ার]

Dollar Diplomacy( ডলার কূটনীতি):

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির একটি দিক হলো ডলার কূটনীতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মার্কিন ব্যবসা বানিজ্য, তথা সমগ্র মার্কিন অর্থনৈতিক কাঠামোর স্বার্থে এবং প্রভাববলয় সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘আন্তর্জাতিক মৈত্রী’, ‘অনুন্নত বিশ্বের অর্থনীতির পুনর্গঠন’, ‘কমিউনিজমের আক্রমণ থেকে স্বাধীনতা ও গনতন্ত্রকে রক্ষা’ ইত্যাদির নামে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে শত শত কোটি ডলার ঋণ ও সাহায্য প্রদান করে।কার্যত এই ঋণ ও সাহায্যের মাধ্যমে মার্কিন পণ্যের একচেটিয়া বাজার বজায় রাখার প্রয়াস চালানো হয় এবং ঋণ বা সাহায্য গ্রহীতা দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন, প্রতিরক্ষা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করা হয়। আর এটিই Dollar Diplomacy বা ডলার কূটনীতি নামে পরিচিত।

courtesy : bcs international affairs

আরো পড়ুন: