আজকাল নতুন নতুন প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। যার মূল কারণ হলো নিজের অসতর্কতা এবং সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকা। আজকে আমরা ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানবো।


ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলে পরবর্তী করণীয়:

ধরুণ আপনি রাতে ফেসবুক ব্যবহার করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। পরদিন সকালে আপনার ঘুম ভাঙার আগেই আপনার বন্ধুদের থেকে কল আসলো আপনার একাউন্ট থেকে আপত্তিকর ছবি অথবা বার্তা ছড়ানো হয়েছে কিংবা সরকারের নামে বাজে মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনও হয়ে থাকে হ্যাকাররা আপনার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে আপনার বাবা-মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আপনার বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতোও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আপনি যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হন তাহলে সর্বপ্রথম আপনার যা করণীয় হবে তা হলো আপনার নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) করা। এক্ষেত্রে আপনার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে অর্থ দাবি করা হলে যে মাধ্যমে হ্যাকাররা অর্থ লেনদেন করতে চায় সেটি জিডিতে উল্লেখ করুন। যেমন: বিকাশ, রকেট, ব্যাংক একাউন্ট ইত্যাদি। থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার ডিজি নিতে অস্বীকৃতি জানালে আপনি সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের বরাত দিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই থানায় ভারপ্রান্ত কর্মকর্তারা এই বিষয়ে জিডি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদেরকেও অনুরোধ করবো সাইবার ক্রাইম ব্যপারে একটু জেনে বুঝে সাধারণ ডায়েরি(ডিজি) কারীকে আইনিভাবে সহায়তা করার জন্য। জিডি করার পরে থানা পুলিশ কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আপনি যদি ঢাকায় থেকে থাকেন তবে আপনি সরাসরি চলে যেতে পারেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হেডকোয়ার্টারে অবস্থিত সাইবার ক্রাইম ইউনিটে। সেখানে গিয়ে আপনার জিডির কপিসহ বিস্তারিত তাদেরকে খুলে বললে তারা যতদুর সম্ভব আপনাকে সাহায্য করবে। আপনি ঢাকার বাইরে থাকলে জিডি করার পরে সরাসরি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ফোন নম্বরে কল করতে পারেন। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের নম্বর: ০১৭৬৯৬৯১৫২২। এছাড়াও আপনি চাইলে পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ এ্যাপসের মাধ্যমে অথবা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অভিযোগ করেও প্রতিকার পেতে পারেন। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ফেসবুক পেজে যেতে এখানে ক্লিক করুন: Cyber Police Centre, CID, Bangladesh Police.


অনলাইনে নিরাপদ থাকুন:

সাইবার অপরাধ থেকে বাঁচতে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারে আগাম সর্তক থাকা উঁচিৎ। আগাম সতর্কতাই আমাদেরকে সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে। তাই বিপদে পড়ে পুলিশের কাছে দৌড়ানোর আগে আমাদের সকলের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। কারণ- কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের মাধ্যমে আপনি আইনি সহায়তা পেলেও আপনার হ্যাক হওয়া ফেসবুক একাউন্ট আর কখনো ফিরে নাও পেতে পারেন। নিচে কিছু সতর্কতা উল্লেখ করা হলো:


০১। ওপেন ওয়াইফাই ব্যবহার করবেন না। এমনকি কোনো রেস্টুরেন্টেও ওপেন ওয়াইফাই কানেক্ট করবেন না। ওপেন ওয়াইফাই কানেক্ট করার মাধ্যমে শুধু আপনার ফেসবুক একাউন্ট নয়, বরং আপনার ফোনে লগইন থাকা অন্যান্য একাউন্টসহ সম্পূর্ণ ফোনটি হ্যাক হয়ে আপনার মূল্যবান সব তথ্য হারিয়ে ফেলতে পারেন। বর্তমানে ফোন হ্যাক হওয়ার বড় মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রেস্টুরেন্টের অপেন ওয়াইফাই।

০২। পাবলিক কম্পিউটারে বসলে আপনার একাউন্ট লগআউট করে cache এবং cookies ডিলেট করে ফেলতে হবে।

০৩। ফেসবুক অথবা ইমেইলে লগইন করার সময় দেখুল সেটা ফেসবুক অথবা ইমেইলের আসল URL কিনা।

০৪। ফেসবুক এবং ইমেইলে আলাদা আলাদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

০৫। আপনি আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড রিসেট করতে না চাইলে Facebook Password Reset Confirmation এরকম মেইলে ক্লিক করবেন না। আপনার ফোননম্বরে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড রিসেটের জন্য কোনো মেসেজ আসলে সাথে সাথে সেই মেসেজটি ডিলেট করে দিন।

০৬। ফিশিং এ্যাটাক থেকে বাঁচার জন্য আপনার ফেসবুক এবং ইমেইলে 2-Factor Authentication (2FA) Enable/On রাখবেন।

০৭। ফেসবুক এবং ইমেইলে Unrecognized Device Login Alert চালু রাখবেন। তাহলে অন্যকোনো ডিভাইস থেকে আপনার একাউন্ট লগইন করা হলে কিংবা লগইন করার চেষ্টা করা হলে সাথে সাথে আপনাকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ও উপরের দেওয়া সেটিংসগুলিসহ নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য সেটিংস সম্পর্কে জানতে এবং সেটিংস পরিবর্তন করতে নিচে দেওয়া আর্টিকেলগুলি পড়ুনঃ


লিখেছেন: Al-Amin Islam