ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু

ভূরাজনীতি হচ্ছে ভৌগোলিক উপাদানের ও রাজনৈতিক কৌশলগত উপাদানের মধ্যকার সম্পর্ক অধ্যয়ন। ক্ষমতা ও ক্ষমতার চর্চার সাথে ভৌগোলিক স্থান বা অবস্থানের মধ্যকার সম্পর্কসমূহের গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানকাণ্ড। ভৌগোলিক সীমানা, ভৌগোলিক গঠন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও এর সাথে কর্তৃত্ব ও জাতিরাষ্ট্রের ক্ষমতা চর্চর সম্পর্কের আলোচনাই হচ্ছে ভূ রাজনীতি। ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু বা পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। নিম্নে ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :

ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু (Subject Matter of Geopolitics) : আজ অবধি মানুষ যে উপাদানের নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতার চর্চা ও কর্তৃত্ব করে আসছে তা হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। ভৌগোলিক পরিবেশের পার্থক্য ভেদে কোথাও এই সম্পদের প্রাচুর্যতা রয়েছে আবার কোথাও স্বল্পতা। মূলত এই দুই কারণেই ভূ-যুদ্ধ বারংবার বিশ্ব অভিজ্ঞতালব্ধ হচ্ছে। ভৌগোলিক উপাদানের ভিত্তিতে যে রাজনৈতিক চর্চার সাথে রাজনৈতিক অর্থনীতি (Political economy), সামাজিক শ্রেণি, মানবিক ইত্যাদি বিষয়াদির সম্পর্ক বিশ্লেষণ তা নিয়ে অধ্যয়নই হচ্ছে ভূ-রাজনীতি। ভূ-রাজনীতি যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তা নিচে দেওয়া হলোঃ

  • ভৌগোলিক উপাদান ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ
  • ভৌগোলিক উপাদান ও জীবিকা
  • স্থান ও কর্তৃত্বের সম্পর্ক
  • প্রাকৃতিক সম্পদ ও কর্তৃত্ব
  • স্থান ও জনসংখ্যার সম্পর্ক
  • সামরিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি কৌশল
  • ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু
  • ভূ-রাজনীতির ধরন ও কাঠামো
  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
  • তত্ত্ব ও গবেষণা পদ্ধতি
  • ভূ-রাজনীতি চর্চা

উপরের চিত্রের মাধ্যমে আমরা ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু ও পরিধি সম্পর্কে একটি সার সংক্ষেপের অবস্থান দেখেছি। এখন এইগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

০১। ভূ-রাজনীতির প্রধান ও মুখ্য আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ভৌগোলিক উপাদানের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক, এদের ধরণ, কৌশলের কাঠামোগত বিশ্লেষণ। আর এই সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয় বৈশ্বিক, আঞ্চলিক, জাতীয় পর্যায় ও জাতীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্তরে।

০ ২। ভৌগোলিক উপাদানের উপর নির্ভর করে মানুষ বেঁচে থাকে। আর মানুষের বেঁচে থাকার কৌশলের উপর কর্তৃত্ব আনা হচ্ছে শোষণের মূল চাবিকাঠি। তাই ভূ-রাজনীতি জ্ঞানকাণ্ডটি এইসব বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করে থাকে। অর্থাৎ যেসমস্ত ভৌগোলিক উপাদান মানুষের জীবিকার উপর প্রভাব ফেলে রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে সেই জীবিকার উপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের গবেষণা ও বাস্তভিত্তিক জ্ঞান নিয়ে ভূ-রাজনীতি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে।

০৩। এটা ভৌগোলিক অবস্থান ও অবস্থানগত রাষ্ট্রীয় উপাদান যেমন- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিগত
কাঠামো যেভাবে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা করে থাকে।

০৪। প্রাকৃতিক সম্পদ ও জাতিরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র পলিসির সম্পর্ক বিশ্লেষণে ভূ-রাজনৈতিক জ্ঞানের সীমানা আছে।

০৫. ভৌগোলিক উপাদানের উপরেই নির্ভর করে মানুষের প্রজনন ব্যবস্থা বা Ferlitity system. কাজেই জনসংখ্যা ও এর ব্যবস্থাপনা যেভাবে ভূ-রাজনীতিকে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে ভূ-রাজনীতি অধ্যয়ন করে।

০৬. ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু মূলত জ্ঞানকাণ্ড হিসেবে এর উৎপত্তি ও প্রগতি, তত্ত্ব, গবেষণা পদ্ধতিও বাস্তব ভিত্তিক চর্চা নিয়ে জ্ঞান সরবরাহ করে।

সামগ্রিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একথা বলা যায় যে, ভৌগোলিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও এর উপর কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য যে বিজ্ঞান সম্পদ জ্ঞান কৌশল দিয়ে থাকে তাই ভূরাজনীতি। আর ভূ-রাজনীতির বিষয়বস্তু মূলত এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যেমন উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (Origin and Development), তত্ত্বসমূহ (Theory), গবেষণা পদ্ধতিসমূহ (Reserceh Methodologiest), বাস্তবভিত্তিক চর্চা (Practical Practices) ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গঠিত। কাজেই ভূ রাজনীতির বিষয়বস্তু বা পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!