রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়। অনেকে এটাকে গরিবের পেনিসিলিনও বলে থাকেন। রসুনের অনেক উপকারিতা রয়েছে। সকালের নাস্তার আগে ২/১ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে রসুন সকালে খালি পেটে খেতে হবে এমনটা নয়; আপনি অন্যকোনো সময় খেলেও অনেক উপকার পাবেন। তবে কাঁচা রসুন খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই রসুন খেলে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। নিম্নে রসুনের কিছু উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে দেওয়া হলোঃ

রসুন সেবনের উপকারিতাঃ

  • রসুন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • যক্ষ্মা নির্মূলে সহায়তা করে।
  • প্রোস্ট্রেট ক্যানসার, স্তন ক্যানসার ও গলব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করতে কার্যকরি ভুমিকা পালন করে।
  • হজমশক্তি বাড়ায় এবং ক্ষুধামন্দা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • স্ট্রোকের ঝুকি কমায় এবং হার্ট ভালো রাখে।
  • নিয়মিত রসুন খেলে পরিপাকতন্ত্রের অনেক সমস্যা দূর হয়।
  • রক্ত পরিষ্কার করে এবং ত্বক ভালো রেখে বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন ২/৩ কোয়া রসুন খেলে ঠাণ্ডা ও জ্বরের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন।
  • ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুঘটিত রোগ প্রতিরোধে রসুন কার্যকরি ভুমিকা পালন করে।
  • রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • কৃমি, জিদ, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে।
  • দাঁতব্যথা, ব্রণ সমস্যা, আঁচিলের সমস্যা দূর করে।
  • অনিদ্রা, ঘুম না আসা সমস্যা সমাধানেও রসুন কার্যকরি।
  • রসুন স্নায়ুবিক চাপ কমিয়ে হতাশা দূর করতে সাহায্য করে।
  • রসুন হাত ও পায়ের জয়েন্টের ব্যথা দূর করে।
  • রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • দীর্ঘমেয়াদী হুপিং কাশি ও ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • বাতের ব্যথা সারায় এবং হাতে পায়ে জয়েন্টের ব্যথা দূর করে।
  • রসুনের ফাইটোনসাইড অ্যাজমা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
  • যৌনমিলনের অসাবধানতা বশত রোগ ট্রিকোমোনিয়াসিসের হাত থেকে রক্ষা করে।

রসুন সেবনের ফলে সৃষ্ট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ

  • যাদের এলার্জি জাতিয় সমস্যা আছে তাদের রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বদাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
  • রসুন খাওয়ার ফলে মাথাব্যথা অথবা বমির প্রাদুর্ভাব হলে রসুন না খাওয়াই ভালো।
  • প্রতিদিন ২/৩ কোয়ার বেশি কাঁচা রসুন খাওয়া ঠিক না।
  • গর্ভবর্তী এবং দুগ্ধদানকারি মায়েদের কাঁচা রসুন খেলে অনেক রকমের সমস্যা হতে পারে, তাই তাদের রসুন না খাওয়াই ভালো।
  • যাদের শরীরে সহযে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়না তাদের কাঁচা রসুন না খাওয়াই ভালো।
  • খালি পেটে অতিরিক্ত রসুন খেলে ডায়ারিয়া হওয়ার ঝুকি থাকে।
  • রসুন বেশি খাওয়ার ফলে রক্তচাপ কমে যায়, তাই নিম্ন রক্তচাপের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
  • নারী যোনাঙ্গে ‘ইস্ট’জনীত প্রদাহের চিকিৎসা চলাকালে রসুন থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার ফলে ‘আইরিস’ ও ‘কর্নিয়া’র মাঝে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।
  • দীর্ঘদিন ধরে রসুন সেবন করলে ঘাম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • অতিরিক্ত রসুন খেলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, বমিভাব হতে পারে।

সবশেষে বলা যায় যে, কাঁচা রসুন খাওয়া ভালো কিন্তু তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। অতিরিক্ত রসুন সেবনের ফলে ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই সতর্কতার সাথে প্রয়োজনবোধে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রসুন সেবন করতে হবে।

আরো পড়ুন: