রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি

আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বেড়েই চলেছে। কেননা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভর করে নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা ও উৎকর্ষতা। রাষ্ট্রের সেবামূলক কর্মকান্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে এবং জনগণের দ্বারে সরকার সেবা পৌছে দেওয়ার কৌশল হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার উপর সরকারের নির্ভরশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু রাষ্ট্রের কর্মকান্ডের পরিসর অনেক বড় এবং টার্গেট জনগোষ্ঠীও বৃহত্তম, তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ব্যতীত সুষ্ঠু সম্পদের বণ্টন ও সেবাদান সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি (Nature of Public Sector Management):

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব জানতে হলে অবশ্যই এর প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা জরুরি। নিম্নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

এখনো amarStudy অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড না করে থাকলে গুগল প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপটি ইন্সটল করতে এখানে যানঃ Download Now. অ্যাপটি বিসিএস’সহ প্রায় সব রকমের চাকুরির প্রস্তুতির সহায়ক।

০১। জনকল্যাণ সম্পর্কিত : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার অন্যতম দিক হলো এর জনকল্যাণ সম্পর্কিত বিষয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কৌশল যাই হোক না কেন মূল লক্ষ্য থাকে কিভাবে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধন করা যায়। এখানে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনের চেয়ে জনগণের কল্যাণ সাধনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

০২। জটিল প্রক্রিয়া : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। এখানে টার্গেট জনগোষ্ঠী যেমন বৃহৎ তেমনি। জনগোষ্ঠীসমূহের সমস্যার ধরণও ভিন্ন ভিন্ন। তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত।

০৩। সেবা ধর্মীয় : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা একটি সেবা ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা। এখানে সরকার জনগণের সার্বিক সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে। সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও সহজভাবে রাষ্ট্রীয় সেবা টার্গেট জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে থাকে।

০৪। রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা এক ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা। কেননা রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে একটি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। তাই এটিকে আমরা কোনভাবেই রাজনৈতিক নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া বলতে পারি না।

০৫। জনস্বার্থ সম্পর্কিত বিষয় : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা হচ্ছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কীভাবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও বাস্তবায়ন করা যায় সেই ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়। মূল লক্ষ্য জনস্বার্থের প্রাধান্য বজায় রাখা।

০৬। বৈচিত্র্যময় প্রক্রিয়া : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা একটি বৈচিত্র্যময় প্রক্রিয়া। এখানে রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে নানা বৈচিত্র্য প্রকাশ পায়। কেননা এই প্রক্রিয়ায় একই সাথে জনগণের নিরাপত্তা, সেবা ও কল্যাণ সম্পৃক্ত থাকে।

০৭। আত্মীকরণ প্রক্রিয়া : সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বৈচিত্র্যের মধ্যে আত্মীকরণ ঘটানো। তাই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাতেও এই আত্মীকরণ প্রক্রিয়া বজায় থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ভিন্নতা সত্ত্বেও জনগণের মধ্যে ঐক্য সাধন করে। সকলকে একই সূত্রে গাঁথার চেষ্টা করে।

০৮। জনগণের সন্তুষ্টিমূলক : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা সর্বদা জনগণের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে জনগণের সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করে। জনগণের সার্বিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সেবা প্রদান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সরকার কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে।ৎ

০৯। আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্ভর : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার অন্যতম দিক হলো এর আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্ভরশীলতা। আর্থ-সামাজিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকৌশল নির্ধারণ ও প্রশাসন পরিচালনা এর অন্যতম লক্ষ্য। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা আর্থ-সামাজিক চাহিদা পূরণ করতে সরকারি কর্মকৌশলকে প্রভাবিত করে।

পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সার্বিক বিষয় সম্পর্কিত একটি ধারণা। এর ক্ষেত্র ব্যাপক হওয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার প্রকৃতিও অত্যন্ত জটিল। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য সাধন করে সকলকে একই সূত্রে গাঁথতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You're currently offline !!

error: Content is protected !!