হংকং সংকট | হংকং চীন প্রজাতন্ত্রের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল যা মূল ভূখণ্ডের প্রদেশগুলির মতো নয়, কিছু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রয়েছে । এটি প্রাক্তন ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকেই একটি বিশ্বব্যাপী বাণিজিক রাজধানী যা ঐতিহাসিকভাবে চীনের সাথে একীভুত হওয়ার পর আরো উন্নতি করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, হংকংয়ের অনেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এবং তারা এটিকে বেইজিং এর এই শহরটিকে দখল করার প্রচেষ্টা হিসাবে দেখেছে। চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য বাড়তে থাকায়, কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন যে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে।

হংকংয়ের রাজনৈতিক অবস্থা কী?

হংকং সংকট | হংকং “এক দেশ, দুটি ব্যবস্থা”, ১৯৮০-এর দশকে দেও জিয়াওপিংয়ের দ্বারা প্রতিষ্টিত একটি জাতীয় একত্রীকরণ নীতি । এ ধারণাটিটির উদ্দেশ্য ছিল তাইওয়ান, হংকং এবং ম্যাকাওকে সার্বভৌম চিনের সাথে পুনরায় একীভূত করতে এবং তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে। ঔপনিবেশিক শাসনের দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পরে, ব্রিটিশ সরকার ১৯৯৭ সালে হংকংকে ফিরিয়ে দেয়। (কিং সম্রাজ্যের নেতারা প্রথম আফিম যুদ্ধে চীনের পরাজয়ের পরে ১৮২২ সালে হংকং দ্বীপটিকে ব্রিটিশদের ইজারা দিয়েছিলেন।) অন্যদিকে পর্তুগাল ১৯৯৯ সালে ম্যাকাওকে ফিরিয়ে দেয় , এবং তাইওয়ান স্বাধীন থাকে।

১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং চীনা প্রধানমন্ত্রী ঝাও জিয়াং সিনো-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন, যেখানে ব্রিটিশরা সম্মতি প্রদান করে যে তারা কেবল নতুন অঞ্চলসমূহই চীনের কাছে ফিরিয়ে দেবে না, পাশাপাশি ইজারার সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার পর কৌলুন ও ব্রিটিশ হংকংও ফিরিয়ে দেবে। তবে ঘোষণাপত্রে কিছু শর্তের উল্লেখ ছিল। সেই বিশেষ শর্তটি হলো: চীন হংকংকে নিয়ন্ত্রণ করবে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ অনুযায়ী, যার ফলে হংকং শহরটি পরবর্তী ৫০ বছর (১৯৯৭ এর পর থেকে) উচ্চ পর্যায়ের স্বায়ত্ত্বশাসন উপভোগ করবে, তবে ‘পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়াবলি ব্যতিরেকে’। এর মাধ্যমে হংকং পরিণত হবে একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে, যার অর্থ হলো:

  • এটির নিজস্ব আইন-কানুন থাকবে;
  • একাধিক রাজনৈতিক দল থাকবে;
  • অধিবেশনের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা থাকবে;
  • এই বিশেষ অধিকারগুলো রক্ষার্থে তাদের একটি ‘খুদে সংবিধান’ থাকবে;
  • প্রাথমিক আইন মোতাবেক, এই অঞ্চলের নেতা তথা প্রধান নির্বাহী নির্বাচিত করা হবে বৈশ্বিক ভোটাধিকার পদ্ধতি অবলম্বনে, সকল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তারা মূল ভূখণ্ডের প্রদেশ এবং পৌরসভাগুলিতে যেভাবে নিয়ন্ত্রন করেন , হংকংয়ের সেরকম হস্তক্ষেপ করেন না, তবে বেইজিং এখনও এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারকারী অনুগতদের মাধ্যমে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে। বেইজিং হংকংয়ের মুল আইনকে ব্যাখ্যা করার কর্তৃত্বও বজায় রেখেছে।
এ আইনের আওতায় হংকং সংবাদপত্র, মত প্রকাশ করা , সমাবেশ এবং ধর্মের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও পেয়েছে তবে বাস্তবে বেইজিং সমালোচনার প্রতি সহনশীলতা কম দেখিয়েছে । হংকংকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন এবং সংস্কৃতি সহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বাহ্যিক সম্পর্ক যোগাযোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তবে বেইজিং এই অঞ্চলের কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

মূল ভূখণ্ডের সাথে হংকংয়ের অর্থনৈতিক সংযোগ কী?

হংকং সংকট | সাত মিলিয়নেরও বেশি লোকের একটি মহানগরী, হংকং একটি বিশ্বব্যাপী আর্থিক এবং শিপিং সেন্টার যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নতি করেছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শতকরা হিসাবে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যার সেবাখাত তার অর্থনীতির 90 শতাংশেরও বেশি। তুলনামূলকভাবে কম কর, একটি উচ্চ বিকশিত আর্থিক ব্যবস্থা, নিয়ম কানুনের শিথিলতা এবং অন্যান্য পুঁজিবাদী বৈশিষ্ট্য হংকংকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বাজারে পরিণত করে এবং এটি সাংহাই এবং শেনজেনের মতো মূল ভূখণ্ডের আর্থিক কেন্দ্রগুলি থেকে আলাদা করে দেয়। হংকং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতামূলক প্রতিবেদনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়ের র্যাংকিং এ চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে এবং হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ২০১২ সালের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। বিশ্বের বেশিরভাগ প্রধান ব্যাংক এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলি শহরে আঞ্চলিক সদর দফতর রয়েছে এ শহরে। তবে হংকংয়ের অর্থনৈতিক শক্তি মূল ভূখণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে – ১৯৯৭ সালে হস্তান্তর হওয়ার পরে । এর জিডিপি ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশেরও কম হয়েছে। তবে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ রয়েছে। হংকং চীনের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার (আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পরে), ২০১৮ সালে চীনের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৭ শতাংশ হংকং এর সাথে হয়েছে । এই শহরটিও চীনের বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) উৎস এবং একটি এমন জায়গা যেখানে চীনা সংস্থাগুলি বিশাল পরিমাণে অফশোর মূলধন জোগাড় করে। একই সময়ে, হংকং মূল ভূখণ্ডের উপর বহুলাংশে নির্ভর করে। চীন, হংকং রফতানির শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য, ২০১৮ সালে এই শহরের মোট ব্যবসায়ের অর্ধেকেরও বেশি অংশ ছিল মূল ভূখণ্ডের সাথে । বাহ্যিক এফডিআই স্টক অর্ধেকেরও বেশি হংকংয়ের জন্য নির্ধারিত, যদিও এই বিনিয়োগের বেশিরভাগ অংশ বিদেশে চলে যায়

হংকং এবং বেইজিংয়ের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কী কী?

হংকং সংকট | একদলীয় রাষ্ট্র হিসাবে চীন হংকংকে অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রে পরিণত হতে দিতে নারাজ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে মুল আইনে অস্পষ্টতা এ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। মুল নথিতে বলা হয়েছে যে “চূড়ান্ত লক্ষ্য(Ultimate Aim) ” বলতে হংকংয়ের নেতাকে একটি জনপ্রিয় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা বুঝায় , তবে এটি কবে হবে এর কোন সময়সীমা দেয় না। হস্তান্তরের পরে, হংকংয়ের প্রধান পেশাদার খাত [পিডিএফ] এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচন কমিটি প্রধান নির্বাহী নির্বাচন করেছে। এরা বর্তমানে ১২০০ সদস্য বিভিন্ন সামাজিক গ্রুপ থেকে এসেছেন: যেমন শিল্প, বাণিজ্যিক এবং আর্থিক ক্ষেত্র; উচ্চ শিক্ষা এবং প্রকৌশল সহ অন্যান্য পেশাদার ক্ষেত্র; শ্রম, সমাজসেবা এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীসমূহ; এবং হংকংয়ের রাজনৈতিক সংস্থা থেকে । এছাড়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সমস্ত পরিবর্তন হংকং সরকার এবং National Peoples Congress , PRC আইনসভা সংস্থা দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।

কিছু বিশ্লেষক বলেছেন যে প্রধান নির্বাহীর পক্ষে জাতীয় ভোট সহ আরও রাজনৈতিক সংস্কার বন্ধের বিষয়ে চীনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে বেইজিং অনির্দিষ্টকালের জন্য তার এই সমস্যাকে জিইয়ে রাখবে । অতি সাম্প্রতিক নির্বাচনে কেবল বেইজিং কর্তৃক মনোনীত কমিটি দ্বারা পরীক্ষিত প্রার্থীদেরই ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ক্যারি লাম হংকংয়ের প্রথম মহিলা প্রধান নির্বাহী হয়ে ২০১৭ সালের জিতেছেন ।

২০১৪ সালে Umbrella Movemnet এবং গণতন্ত্রপন্থী দলগুলির নির্বাচনী বিজয় হিসাবে ব্যাপক বিক্ষোভের পরে রাজনৈতিক অসন্তোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেইজিং তার প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করেছিল। সেই বছরের পরে, বেশ কয়েকজন নতুন বিধায়ক পদে শপথ সংশোধন করার সময় একটি বিতর্ক শুরু হয়। শপথ গ্রহণের পরে, বেইজিংকে স্থানীয় আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার এবং হংকংয়ের মুল আইনটির একটি নতুন ব্যাখ্যা পাস করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যা শপথ থেকে বিচ্যুত বিধায়কদের জন্য কিভাবে অযোগ্য ঘোষনা করা হবে তার রুপরেখা প্রকাশ করেছিল। শেষ পর্যন্ত ছয়জন বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, মূল ভূখণ্ডের কর্মকর্তারা হংকংয়ের মিডিয়া ব্যবহার করে বেইজিংয়ের নীতিকে প্রকাশ করার জন্য এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠে চেপে ধরার চেষ্টা করছেন । চীন সরকারের মালিকানাধীন একটি সংস্থা সিনো ইউনাইটেড পাবলিশিং স্থানীয় বাজারের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে । হংকংয়ের বই বিক্রয়কারী, মিডিয়া এক্সিকিউটিভ এবং একজন চীনা ধনকুবেরের রহস্যজনক অন্তর্ধান এর ঘটনা হংকংয়ের উপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়ঃ

হংকং সংকট | ২০১৯ সালের শুরুর দিকে বেইজিংয়ের সাথে উত্তেজনা আবার আলোচনায় এসেছিল, যখন কয়েক হাজার মানুষ এই আইনসভার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন যা মূল ভূখণ্ড চীনকে প্রত্যর্পণের অনুমতি দেবে। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র অপরাধী নয়, সন্দেহভাজন যে কাউকে চীন প্রয়োজনে নিজ সীমানার মধ্যে নিয়ে গিয়ে বিচারের আওতায় আনতে পারবে। বেইজিং, ম্যাকাও ও তাইওয়ান থেকে পালিয়ে আসা যেকোনো অপরাধীকেই চাইলেই ফেরত দিতে হবে এই আইনের বদৌলতে। বিক্ষোভকারীরা কয়েক মাস ধরে অব্যাহত ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা আইন পরিষদের ভবনে হামলা চালিয়ে এবং পরের মাসে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দখল করে নিয়েছিল । টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটের অতিরিক্ত ব্যবহার সহ পুলিশি বর্বরতার খবরগুলি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাহী লাম সেপ্টেম্বরে বেইজিং-অনুমোদিত বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, তবে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী সংস্কার এবং পুলিশি সহিংসতার স্বতন্ত্র তদন্তের দাবি করছেন। এখনও অবধি বেইজিং এই সঙ্কটের প্রতিক্রিয়া জানাতে হংকংয়ের সরকারকে বহুলাংশে ছাড় দিয়েছে, তবে চীনা রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যম তাদের এই কর্মকাণ্ডকে “সন্ত্রাসবাদ” বলে অভিহিত করে এবং বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিক্ষোভকারীদের দোষারোপ করার চেষ্টা করেছে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে বেইজিং শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে।

হংকং বাসী কী চায়?

হংকং সংকট | বেশিরভাগ হংকং বাসী “একটি দেশ, দুটি ব্যবস্থা” প্রক্রিয়া কে সমর্থন করে তবে এই ব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা হ্রাস পেতে পারে। অন্যান্য জনমত জরিপ ইঙ্গিত দেয় যে হংকংয়ের বাসিন্দারা হংকং সরকার নিয়ে ক্রমশ অসন্তুষ্ট হচ্ছে। প্রত্যর্পণ বিলের বিক্ষোভের মধ্যে, হংকং সরকারের অসন্তুষ্টি হু হু করে উঠেছে। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিচ্ছে —রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করেছে। তরুণ প্রজন্মরা মনে করেন যে তারা তাদের শহরের ধন-সম্পদের সুষ্টু ব্যবহার হচ্ছেনা এবং মূল ভূখণ্ডের লোকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন । মূল ভূখণ্ডের অর্থের প্রভাব আর্থ-সামাজিক শ্রেণীর মধ্যে বিভাজনকে আরও প্রশস্ত করে তুলছে । চীনের কাছে হস্তান্তর করার পর থেকে এই শহরের জাতিগত পরিচয়ও বিকশিত হয়েছে। যদিও এখনও অনেকে নিজেদের মিশ্র পরিচয় বলে বর্ণনা করেন, তবুও আরও বেশি লোক নিজেকে হংকং বলে পরিচয় দেন ।

হংকংয়ের রাজনৈতিক ভারসাম্য কী?

হংকং সংকট | হংকং এর রাজনৈতিক দৃশ্যটি ঐতিহ্যগতভাবে দুটি দলের মধ্যে বিভক্ত হয়েছে: প্যান-ডেমোক্র্যাটস, যারা ক্রমবর্ধমান গণতান্ত্রিক সংস্কারের আহ্বান জানায় এবং যাদের বেইজিংয়ের বিপুল সমর্থক এবং সমর্থক রয়েছে। হংকংয়ের রাজনীতিতে সাধারণত pro-established গোষ্ঠী শক্তিরা বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। প্যান-ডেমোক্র্যাটরা স্বীকার করেছেন যে হংকং বেইজিংকে এমন সংস্কারের জন্য বাধ্য করতে পারে না যা তার কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বকে বিপদে ফেলতে পারে এবং পারস্পরিক উপকারী হয় এমন সংস্কার এর প্রতি তাদের সমর্থন থাকবে। একই সাথে আরও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকারীদের বর্ধমান আন্দোলন চলছে। ২০১৪ সালের বিক্ষোভের পরে, তরুণ নেতাকর্মীরা হংকংয়ের আরও একটি স্থানীয় পরিচয় স্বীকৃতি হিসাবে নতুন রাজনৈতিক দল এবং দল গঠন করেছিল। এই দলগুলিতে আরও উগ্রপন্থী, বেইজিং বিরোধী দলগুলি যেমন Youngspiration এবং হংকং আদিবাসী এবং Demoistto অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যারা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং স্ব-সিদ্ধান্তের পক্ষে।

হংকংয়ের জন্য বেইজিংয়ের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

হংকং সংকট | ২০৪৭ সালের পরে হংকংয়ের জন্য চীনের পরিকল্পনা কী তা স্পষ্ট নয় । আপাতত বেইজিং তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে চায় এবং তাই সমস্ত প্রতিবাদ এবং গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক কণ্ঠকে তার একদলীয় শাসনের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছে। এটি হংকংয়ের গণতন্ত্রের আহ্বানকে বিশেষত হুমকিস্বরূপ নিয়েছে । চীন হংকং কে স্বীকৃতি দিতে চাইবেনা কারন এটি তার জিনজিয়াং, অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়া, ম্যাকাও এবং তাইওয়ান সহ চীনের অন্যান্য অঞ্চলের পক্ষে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জোরালো হতে পারে । আর চীন কোনমতেই তা মেনে নিতে চাইবেনা ।গত কয়েক বছর ধরে, চীন হংকং এবং ম্যাকাওকে মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত একটি দ্রুতগতির রেল স্টেশন এবং একটি ছত্রিশ কিলোমিটার সেতু খোলার সাথে সাথে হংকংকে আরও মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করতে পরিকিল্পনা বাস্তবায়ন করছে ।

২০৪৭ সাল পর্যন্ত চীন সরকার যৌথ ঘোষণাপত্র অনুসারে হংকংকে সিংহভাগ স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ উপভোগ করতে দিতে বাধ্য। কিন্তু এরপরই হংকংয়ের উপর পূর্ণাঙ্গ অধিকার চলে আসবে তাদের হাতে। অনেকে অবশ্য চায়, ২০৪৭ সালের পর হংকংকে পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা দিয়ে দেয়ার। ব্রিটিশ হস্তান্তরের বিংশতম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৩ সালে হংকং সফরে রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন যে, “চীনের সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষাকে বিপন্ন করার যে কোনও প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে । তাই সংখ্যাগরিষ্ঠের ধারণা, চীন কখনোই সে প্রস্তাবে রাজি হবে না। বরং ২০৪৭ সাল পরবর্তী দৃশ্যপটগুলো হতে পারে এমন:

  • চীন সরকার হংকংয়ের বর্তমান স্বায়ত্তশাসন ও প্রাথমিক আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে;
  • চীন বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে হংকংয়ের কিছু বিশেষ সুবিধা বহাল রাখতে পারে, আবার কিছু কেড়ে নিতে পারে;
  • চীন হংকংয়ের বিশেষ খেতাবটি কেড়ে নিতে পারে, ফলে তখন হংকংকে স্বায়ত্তশাসন ব্যতীত চীনের সাধারণ একটি প্রদেশে পরিণত হতে হবে।

২০৪৭ সালের পর কী হবে, তা আসলে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। তবে হংকংয়ের তরুণ প্রজন্মের মাঝে রাজনীতি সচেতনতার বীজ এত গভীরভাবে বুনে দেওয়া হয়েছে যে, ২০৪৭ সালের পর চীন সরকার হংকংয়ের সাথে যা-ই করার চেষ্টা করুক না কেন, হংকংয়ের জনগণের পক্ষ থেকে তার প্রবল বিরোধিতা আসতে বাধ্য। সুতরাং এই শতকের মাঝামাঝি পর্যায়ে গিয়ে বিশ্ব রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে নতুন অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে চীন-হংকং দ্বৈরথ।

সুত্রঃ ১। বিভিন্ন আন্তুর্জাতিক গনমাধ্যম থেকে সংগৃহিত , অনুদিত,সম্পাদিত একটি মৌলিক লিখা। কপি করলে কার্টেসি দিতে ভুলবেন না।

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (সুপারিশপ্রাপ্ত)
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

আরো পড়ুন: